বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর গুরুত্ব ও ফজিলত
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর গুরুত্ব ও ফজিলত
ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম—এই ছোট কিন্তু গভীর অর্থবহ বাক্যটি দিয়ে একজন মুসলমান তার প্রতিদিনের জীবন শুরু করে। আমি আপনি যখন কোনো কাজ শুরু করি, খাওয়া-দাওয়া করি, লেখা শুরু করি বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিই, তখন বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম উচ্চারণ করা আমাদের ঈমানি পরিচয়ের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে সহজ ভাষায় বোঝাবো বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর গুরুত্ব ও ফজিলত, কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর মর্যাদা, জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা উচিত এবং কেন এটি একটি মুসলিম জীবনের অপরিহার্য আমল। এই লেখা পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন—কেন বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম শুধু একটি বাক্য নয়, বরং পুরো জীবনের বরকতের চাবিকাঠি।
১. বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর অর্থ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম অর্থ হলো—
“আমি শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।”
এই অর্থের মধ্যেই বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর গভীর তাৎপর্য লুকিয়ে আছে। এখানে আল্লাহর তিনটি মহান পরিচয় প্রকাশ পায়—
- আল্লাহ
- রহমান (সকল সৃষ্টির প্রতি দয়ালু)
- রহিম (বিশেষভাবে মুমিনদের প্রতি দয়ালু)
২. কুরআনে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর গুরুত্ব
কুরআনের প্রায় সব সূরা শুরু হয়েছে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম দিয়ে। এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ নিজেই আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন—কাজ শুরু করতে হবে তাঁর নামে।
কুরআন পাঠের শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়া শুধু সুন্নাহ নয়, বরং বরকতের মাধ্যম।
৩. হাদিসে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর ফজিলত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ছাড়া শুরু করা হয়, তা বরকতহীন হয়।”
এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ছাড়া কাজ শুরু করলে সেই কাজে পূর্ণ কল্যাণ আসে না।
৪. দৈনন্দিন জীবনে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর প্রভাব
আমি আপনি যখন প্রতিদিনের কাজে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলি, তখন—
- কাজের মধ্যে আল্লাহর স্মরণ থাকে
- মন শান্ত থাকে
- ভুল ও গুনাহ থেকে দূরে থাকা সহজ হয়
এভাবে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম আমাদের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে।
৫. খাবার খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
খাবার খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলা সুন্নাহ।
এতে—
- খাবারে বরকত হয়
- শয়তানের অংশগ্রহণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়
আমি আপনি যদি এই ছোট আমলটি নিয়মিত করি, তাহলে দুনিয়াবি ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করি।
৬. পড়াশোনা ও লেখালেখিতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
পড়াশোনা, পরীক্ষা, লেখা বা আর্টিকেল শুরু করার আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়লে—
- স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়
- কাজে মনোযোগ আসে
- আল্লাহর সাহায্য লাভ হয়
৭. ব্যবসা ও কাজে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ব্যবসা শুরু করার সময় বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলা রিজিকের বরকত বৃদ্ধি করে।
আমি আপনি যদি হালাল রিজিক চাই, তাহলে প্রতিটি লেনদেনে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম রাখা উচিত।
৮. বিপদ ও দুশ্চিন্তায় বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
বিপদের সময় বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়লে—
- অন্তরে সাহস আসে
- ভয় কমে যায়
- আল্লাহর উপর ভরসা দৃঢ় হয়
এটি একটি শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ঢাল।
৯. বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ও শয়তান থেকে সুরক্ষা
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম উচ্চারণ করলে শয়তান দূরে সরে যায়।
ঘরে ঢোকার সময়, দরজা বন্ধ করার সময় বা কোনো কাজ শুরুতে এটি পড়া সুন্নাহ।
১০. সন্তানদের বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম শেখানো
আমি আপনি যদি সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম শেখাই, তাহলে—
- তাদের ঈমান মজবুত হয়
- আল্লাহভীতি তৈরি হয়
- চরিত্র সুন্দর হয়
১১. ঘুমানোর আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ঘুমানোর আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়লে—
- দুঃস্বপ্ন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়
- আল্লাহর হেফাজত পাওয়া যায়
১২. সফর শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ভ্রমণ বা সফর শুরুর আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়া নিরাপত্তা ও কল্যাণের কারণ হয়।
১৩. বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ও নিয়ত
এই বাক্যটি আমাদের নিয়তকে শুদ্ধ করে।
আমি আপনি যখন বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলি, তখন কাজটি আল্লাহর জন্য করার মানসিকতা তৈরি হয়।
১৪. আত্মশুদ্ধিতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
নফসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম একটি কার্যকর অস্ত্র। এটি হৃদয়কে নরম করে।
১৫. সমাজ ও আচরণে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
মানুষের সাথে কথা বলার আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম মনে রাখলে—
- রাগ কমে
- ভাষা সুন্দর হয়
- সম্পর্ক ভালো থাকে
১৬. আমল হিসেবে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
এটি শুধু বাক্য নয়, বরং একটি পূর্ণ আমল। নিয়মিত পড়লে এটি সাদাকাহ জারিয়ার মতো কাজ করে।
১৭. কেন বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এত শক্তিশালী
কারণ এই বাক্যে—
- আল্লাহর নাম আছে
- দয়ার ঘোষণা আছে
- বান্দার আত্মসমর্পণ আছে
১৮. আমরা কেন অবহেলা করি
আমি আপনি অনেক সময় তাড়াহুড়ার কারণে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ভুলে যাই। অথচ এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের আমল।
১৯. কীভাবে অভ্যাস গড়ে তুলবেন
- প্রতিদিন সচেতনভাবে বলা
- সন্তানদের মনে করিয়ে দেওয়া
- কাজ শুরুতে থামার অভ্যাস করা
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম একটি ছোট বাক্য হলেও এর গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। আমি আপনি যদি জীবনের প্রতিটি কাজে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম অন্তর্ভুক্ত করি, তাহলে আমাদের কাজ হবে বরকতময়, জীবন হবে শান্তিময় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ সহজ হবে। আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিন—কোনো কাজ আর বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ছাড়া শুরু করবেন না।
আমার মতামত:
আমার মনে হয়, আমরা যদি জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় কাজে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলার অভ্যাস গড়ে তুলি, তাহলে আমাদের কাজেও বরকত আসবে, মনেও প্রশান্তি তৈরি হবে। এটি শুধু মুখের কথা নয়, বরং একজন মুমিনের পূর্ণ জীবনব্যবস্থার প্রতিফলন।


ড্রিমিক্স আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url